ব্লার্ব
কাগজে কলমে দিল্লি থেকে রাজস্থানের তিলোনিয়ার দূরত্ব ৩৬০ কিমি। আজকের যুগে যা নস্যি। তা সত্ত্বেও সত্তরের দশকে অরুণা বলছেন, ‘দুটো যেন সম্পূর্ণ আলাদা জগত।’ এই ভারতবর্ষের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে অসংখ্য ক্ষুদ্র ভারত— তাদের বিপুল বৈচিত্রের সম্ভার নিয়ে। তাকে চেনা, জানা খুব সহজ কাজ নয়।
যে মুষ্টিমেয় লোক সেই ভারত-আত্মাকে ধরতে নিজের জীবন পণ করেছেন, অরুণা রায় তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য। সম্ভ্রান্ত বংশের সন্তান, আই এ এস অফিসার অরুণা সত্তরের দশকের মাঝামাঝি একদিন সব ছেড়েছুড়ে চলে আসেন রাজস্থানের আজমীড় জেলার তিলোনিয়া গ্রামে— সেখানকার স্থানীয় দরিদ্র মানুষদের জন্য কাজে যোগ দিতে।
কর্মজীবনের সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিজীবনেরও আমূল পরিবর্তন। গ্রামের মেয়েদের সঙ্গে করেছেন মাটি কাটার কাজ। কমিউন করে থেকেছেন দেওডুংরির কুঁড়েঘরে। হয়ে উঠেছেন ওদেরই একজন— সত্যিকারের নেত্রী।
দুই মলাটের মধ্যে ধরা এ এক মহাজীবনের আখ্যান।
About the Author
অরুণা রায় (জন্ম ১৯৪৬, মাড্রাস, অধুনা চেন্নাই) ভারতের একজন বিশিষ্ট সমাজকর্মী, প্রাক্তন সরকারি কর্মকর্তা এবং ভারতে তথ্যের অধিকার (আরটিআই) আন্দোলনের নেত্রী। তিনি ‘মজদুর কিষাণ শক্তি সংগঠন’ (এমকেএসএস) – এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতার দাবি তুলে দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং পরবর্তীতে ২০০৫ সালের তথ্য অধিকার আইন প্রণয়নে পথপ্রদর্শক হয়। এই আইন সাধারণ নাগরিকদের ক্ষমতায়ন করে এবং সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনে। একজন প্রাক্তন আইএএস কর্মকর্তা হিসেবে তিনি ১৯৭৪ সালে চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন রাজস্থানের গ্রামীণ দরিদ্রদের সেবে কাজ করার লক্ষ্যে। সেখানে তিনি মজুরি ও জমির ন্যায্য দাবিক তথাপ্রাপ্তির জাতীয় দাবিতে রূপান্তরিত করেন। তার এই অবদান আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে এবং তিনি র্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার সহ নানা সম্মানে ভূষিত হন। মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন (MGNREGA – মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্ট) আইনটেনের ও তাঁর এবং তাঁর সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ ছিল।
অনুবাদক রৌহিনের জন্ম কলকাতায় হলেও ছাত্রজীবন পুরোটাই কেটেছে মূলত উত্তরবঙ্গে। বিজ্ঞানের স্নাতক। এরপর ১৯৯৩ সালে কলকাতায় মারুবাণী ইনস্টিটিউট অফ এক্সপেরিমেন্টাল রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশনে যোগদান। এখানে বিনামূল্যে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের বিজ্ঞানশিক্ষার ক্লাস পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছেন। কর্মসূত্রে ভ্রমণের জীবনযাপনের পর বর্তমানে পুরোপুরি লেখালেখিতেই ব্যস্ত মূলত রাজনৈতিক রগ লেখক হলেও বেশ কিছু ই-ম্যাগাজিনের জন্য অনুবাদ, মৌলিক গদ্য এবং কবিতা লিখেছেন। সাংবাদিক হরিণা কৌর, অর্থনীতিবিদ মৈত্রীশ ঘটকের বেশ কিছু বিশ্লেষণাত্মক লেখার অনুবাদ করেছেন। ২০২৪-এর নোবেলজয়ী সাহিত্যক হান কাং-এর ‘হিউমান আর্টস’ উপন্যাসটির বাংলা অনুবাদ করেছেন বর্তমানে, যেটি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে অন্য স্বর ই-ম্যাগাজিনে। উত্তরবঙ্গের একটি সেবামূলক এন জি ও ‘সতীর্থ মালবাজার’-এর সঙ্গে জড়িত।
Reviews
There are no reviews yet.